সংবাদ
জিয়া খান ধর্ষণ ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাতের শিকার হয়েছিলেন!

তারিখ: ১১ জুন ২০১৩, মঙ্গলবার ০৩:৪৬ পিএম





মিডিয়া টাইমস ডেস্ক: "আমি জানি না তোমাকে এটা কিভাবে বলবো কিন্তু আমাকে বলতে হবে কারণ আমার আর হারানোর কিছু নেই। আমি এরইমধ্যে আমার সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। তুমি যখন এটা পড়বে হয়তো আমি ততক্ষনে চলে গেছি বা যাওয়ার পথে। আমি ভেতর থেকে ভেঙ্গে পড়েছি। তুমি হয়তো জানো না তুমি আমাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছো এমন একটা সময়ে যখন আমি তোমাকে ভালোবেসে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।"

মৃত্যুর আগে লেখা ছয় পৃষ্ঠার দীর্ঘ ‘সুইসাইড নোট'টি এভাবেই শুরু করেছিলেন জিয়া খান। পুরো চিঠিতেই নিষ্পাপ সারল্য আর কিশোরীসুলভ আবেগ ফুটে উঠেছে জিয়ার। আগে থেকে জানা না থাকলে বোঝা মুশকিল এই চিঠি পূর্ণবয়স্ক কারো লেখা, না এক অভিমানী কিশোরীর ডায়েরীর পাতা। গত সোমবার জিয়ার মা রাবিয়া খান চিঠিটি জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করে পত্রিকার মাধ্যমে। তিনি জানান, জিয়ার ছোট বোন চিঠিটি খুঁজে পায়।

আগে থেকেই কবিতা লেখার অভ্যাস ছিলো জিয়ার। সাহিত্যের ছাত্রীও ছিলেন তিনি। কিন্তু আত্মহত্যার আগে যে চিঠি তিনি লিখে গেছেন, তাতে যেমন তাঁর জীবনের ভয়ংকর অন্ধকার দিকগুলো উঠে এসেছে, তাঁর বঞ্চনা, কষ্ট, ক্ষোভের সাথে সীমাহীন ভালোবাসাও তেমনিভাবে টের পাওয়া গেছে চিঠির ভাষায়।

 

061120131643453.jpg

অত্যাচার, ধর্ষণের কথা এভাবেই উঠে এসেছে জিয়ার লেখা চিঠিতে!

 

"যে দিন প্রথম তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, অনেক স্বপ্ন ছিল চোখে। তোমার প্রেমে পড়লাম। ভেবেছিলাম এটাই বোধহয় জীবনের সেরা পাওয়া। জানি না কেন ভাগ্য আমাকে তোমার কাছে টেনে আনলো। এত অত্যাচার, ধর্ষণ, নির্যাতন এ সব আমার পাওনা ছিল না।"

চমকে ওঠার মতো এই কথাগুলোও জিয়ার চিঠিতে পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, ২৫ বছর বয়সী জিয়ার সাথে ২২ বছর বয়সী সুরাজ পাঞ্চোলির প্রায় এক বছর ধরে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিলো। মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেও জিয়া তাঁর জীবনের শেষ ফোনটি সুরাজকেই করেছিলেন। সুরাজ বলিউড অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে।

চিঠি থেকেই জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন জিয়া। কিন্তু সুরাজের আচরণে তিনি বাধ্য হন সেই অনাগত সন্তানকে হত্যা করতে। অনিচ্ছাকৃত এই গর্ভপাত জিয়াকে গভীর বিষণ্ণতার দিকে ঠেকে দেয়, এবং সে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে প্রায় একাকী দিন কাটাতে শুরু করে এরপর থেকে।

 

061120131642296.jpg

গর্ভপাত সম্পর্কে জিয়ার লেখা

 

এছাড়াও সুরাজের উপেক্ষা আর একাধিক নারী সংসর্গ জিয়াকে ঠেলে দিয়েছিল মৃত্যুর দিকে। জিয়া সুরাজের মন জয় করার জন্য তার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যায় করেছেন, সময় দিয়েছেন, নিজের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা না করে সুরাজের ভবিষ্যৎ বলিউড পরিকল্পনা সফল হতে সাহায্য করেছেন। তারপরেও সুরাজের খামখেয়ালিপনা কমেনি কিছুতেই। এমনকি এক বছরের মধ্যে বাগদানের কথা দিয়েও সুরাজ সে কথা রাখেনি।

চিঠিতে জিয়া বলেন, "আমি আমার দশ বছরের ক্যারিয়ার আর স্বপ্নকে বিদাইয়ী চুম্বন জানাচ্ছি। আমি তোমাকে কখনো বলিনি, কিন্তু আমি তোমাকে নিয়ে একটি খবর পেয়েছিলাম। তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছো সেই বিষয়ে। আমি বিষয়টি উপেক্ষা করি, তোমাকে বিশ্বাস করার সিদ্ধান্ত নিই।"

এতোটাই ভরসা করতেন তিনি সুরাজকে। কিন্তু সুরাজ তারপরেও অপরিবর্তিত থাকে। শেষে জিয়া জানান, "আমি অনেক গভীর আঘাত পেয়ে আমাদের সন্তানকে গর্ভপাত করি।"

সবশেষে জিয়া তাঁর চিঠি শেষ করেন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের মধ্যে দিয়েই। তিনি লিখেছিলেন, "আমি আশা করতাম যদি তুমিও আমাকে সেভাবেই ভালোবাসতে যেভাবে আমি তোমাকে ভালোবেসেছি। আমি আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতাম। আমি আমাদের সাফল্যের স্বপ্ন দেখতাম। আমি এই জায়গা ছেড়ে যাচ্ছি আর কিছুই না শুধু ভাঙ্গা স্বপ্ন আর শূন্য প্রতিশ্রুতি নিয়ে। আমি এখন শুধু ঘুমিয়ে পড়তে চাই এবং আর কখনো ঘুম থেকে উঠতে চাই না।"   

উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে সু্রাজকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সুরজের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ ইতোমধ্যে জমা করেছেন তারা। অন্যদিকে, সুরাজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি হিসাবে অভিনয়, নাচ ইত্যাদি শেখার পেছনে প্রচুর সময় ব্যায় করার ফলে তিনি জিয়াকে নিয়মিত সময় দিতে পারতেন না। আর এসব থেকেই জিয়ার মধ্যে অভিমান ও ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে, যার ফলস্বরূপ জিয়া আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে, জিয়ার মা ও পরিবার থেকে বলা হয়, জিয়ার ক্যারিয়ার নিয়ে তাঁর মধ্যে কোন কষ্ট বা হতাশা ছিলো না, আত্মহত্যার পেছনে মূল কারণ সুরাজের প্রতারণা।

 

১১ জুন, ২০১৩

 

 

 

 

 

 
সর্বশেষ সংবাদ